ক্ষয়চক্র বলতে বোঝয় উত্থিত কোনো ভূমিরুপ ক্ষয়কার্যের ফলে প্রাথমিক অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে কতগূলি অর্ন্তবর্তী পর্যায়ের মধ্য দিয়ে একটি ধারা অনুসরন করে ক্ষয়ের শেষ সীমায় বা Bess Lavel Of erotion এ পতিত হওয়া।
W. Penck এর তত্ত্বটি সময় নির্ভর ঐতিহাসিক তত্ত্বের অন্তর্গত একটি চক্রিয় ধারনা। এখানে Penck Davisian তত্ত্বের সমালোচনা করে ভূমিরূপের দীর্ঘ স্থায়ী উত্থানের সাথে ক্ষয়ের হারের আপেক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে ভূমিরূপ বিবর্তনের তত্ত্বটির অবতারনা করেন। এখানে Penck slope evalution এর উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জার্মান ভৌগলিক W. Penck জার্মান ভাষার তার তত্ত্বটি লেখেন, যা তার মৃত্যুর পর 1924 সালে প্রকাশিত হয় এবং তত্ত্বটি 1953 সালে ইংরাজি ভাষায় অনুদিত হয়।
· পূর্বশর্ত- Penck উত্থিত কোনো ভূমিরূপকে U ও ক্ষয়ের হারকে E ধরে ক্ষয়চক্রটি আলোচনা করেছেন।
তার তত্ত্বের Assumption গুলি হল-
i. কোনো স্থানের ক্ষয়ের তীব্রতা ওই অংশের ঢালের সাথে সমানুপাতিক হারে ঘটে।
ii. কোনো অংশের ভূমির ঢাল ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থগুলিও আয়তনের উপর নির্ভর করে।
iii. সাধারন ভাবে ভূমির ঢাল বেশি হলে পরিবহন ক্ষমতাও বেশি হবে।
iv. যদি ঢালের সমস্ত অংশে সমান হারে আবহবিকার কার্যকরী হয় তাহলে সমান্তরালভাবে ঢালের পশ্চাদ অপসারণ হবে।
vi. ভূমির উত্থানের হার ও ক্ষয়ের হারের আপেক্ষিক সম্পর্ক হবে তিন প্রকার। E<U, E=U, E>U
· W. Penck এর তত্বের মূল ধারণা-
Penck উত্থান ও ক্ষয়ের সম্পর্ক দেখাতে গিয়ে তিনপ্রকার গঠন পদ্ধতি বা Entwiklung বলেছেন-
i. উত্তল ঢাল সৃষ্টির পর্যায়/ আউটস্টেজেন্ডি এনটুইকলাঙ
ii. সমঢাল সৃষ্টির পর্যায়/ গ্লিফারমিজ এনটুইকলাঙ
iii. অবতল ঢাল সৃষ্টির পর্যায়/ অ্যাবস্টিজেন্ডি এনটুইকলাঙ
নিম্নে এই সম্পর্কে আলোচিত হল-
i. উত্তলঢাল সৃষ্টির পর্যায় বা আউটস্টেজেন্ডি এনটুইকলাঙ-

ii. সমঢাল সৃষ্টির পর্যায় বা গ্লিফারমিজ এনটুইকলাঙ-

iii. অবতল ঢাল সৃষ্টির পর্যায়/ অ্যাবস্টিজেন্ডি এনটুইকলাঙ-

W. Penck মূলত ঢালের বিবর্তনের কথা বলেছেন। এই ঢাল কতগুলো অংশে বিভক্তে-
i. উত্তাল ঢাল এর নীচে ii. ঘাড়া ভৃগুতল। খাড়া ভুগুতলের পশ্চাদ অপসারণের ফলে
মৃদুঢাল যুক্ত iii. পিডমনট্রপেন বা পেডিমেন্ট তৈরি হয় ও পরে তা ক্ষয়িত হয়ে vi. ট্যালাস বা হ্যান্ডেল হ্যান্ড গঠন করে।
· Penck - এর তত্ত্বের বিবরণ-
আল্পস পার্বত্য অঞ্চলে গবেষণা করার সময় W. Penck এর যে অভিজ্ঞতা হয়ে ছিল তার দ্বারা চালিত হয়ে তিনি তত্ত্বটি প্রকাশ করেন। W. Penck ভূমি বিবর্তনের পাঁচটি পর্যায়ের কথা বলেছেন-
i. ভূমি রূপের উত্থান হয় ক্ষয়িত সমপ্রায় ভূমি বা Primaramph এর উত্থানের মধ্য দিয়ে। এই পর্যায়ে ভূমির চূড়ান্ত ও আপেক্ষিক উচ্চতা দুই বাড়ে।
ii. পরবর্তী পর্যায়ে শৈলশিরা অঞ্চল তীক্ষ্ন হয় ও উপত্যাকা অঞ্চল প্রশস্ত হয়। ভূমির উচ্চতা বাড়তে থাকায় আপেক্ষিক উচ্চতা একই থাকে।
iii. তূতীয় পর্যায়ে নিম্নক্ষয় বজায় থাকে ও ভূমির উত্থান চলতে থাকায় চূড়ান্ত ও আপেক্ষিক উচ্চতা একই থাকে।
iv. ভূমির উত্থান বন্ধ হয়ে যায়, নিম্নক্ষয় চলে ভূমির উচ্চতা কমে আপেক্ষিক ও চূড়ান্ত উচ্চতা প্রায় একই থাকে।
v. নদীর নিম্নক্ষয়ের তীব্রতা কমতে থাকে, শৈলশিরা নীচু এবং গোলাকৃতি হয়ে যায়। চূড়ান্ত ও আপেক্ষিক উচ্চতা দুই কমতে থাকে।
W. Penck এর তত্ত্বের সমালোচনা-
i. W. Penck এর তত্ত্বের ভূমি বিবর্তনের আদর্শ চিত্রটি কাল্পনিক বলে অনেক ভৌগলিক মনে করেন।
ii. ঢালের পশ্চাদ অপসারণের ধারনাটিও এক্ষেত্রে ভূমি বিবর্তনের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
iii. ভূমির উত্থান ও প্রকৃতির মধ্যে যে সম্পর্ক দেখিয়েছেন তা অনেক ক্ষেত্রেই অবাস্তব।
iv. পিডমনট্রপেন সৃষ্টির ব্যাখ্যাও সুস্পষ্ট নয়।
v. এটি দুর্বোধ্য জার্মান ভাষায় লেখা ফলে সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়না।